শিশুর বেড়ে ওঠা ও প্রতিবন্ধকতা: সামাজিকীকরণ (সপ্তম অধ্যায়)

ষষ্ঠ শ্রেণি (মাধ্যমিক) - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় | NCTB BOOK
1.8k
Summary

শিশুর বেড়ে ওঠা পরিবার থেকে শুরু হয় এবং পরে নতুন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হয়, যা সামাজিকীকরণ বলা হয়। তবে, সমাজে বেড়ে ওঠার সময় শিশুর সামনে নানা প্রতিবন্ধকতা আসে, যা অতিক্রম করা জরুরি। এই অধ্যায়ে শিশুর বেড়ে ওঠার প্রতিবন্ধকতা ও সামাজিকীকরণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করা হবে।

এ অধ্যায় শেষে আমরা শিখতে পারব:

  • সামাজিকীকরণের ধারণা ও এর প্রভাব;
  • সামাজিকীকরণের মাধ্যম ও গুরুত্ব;
  • শিশুশ্রমের ধারণা, কারণ ও প্রভাব;
  • শ্রমজীবী শিশুর প্রতি আমাদের মনোভাব;
  • মানবিক ও সামাজিক গুণাবলি রপ্ত করে পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক উন্নয়ন;
  • শ্রমজীবী শিশুর অধিকার ও সচেতনতা।

শিশুর বেড়ে উঠা শুরু হয় পরিবার থেকে। পরিবারের গণ্ডি পার হয়ে শিশুকে নতুন নতুন পরিবেশের সঙ্গেও খাপ খাওয়াতে হয়। নতুন পরিবেশ-পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে চলায় প্রক্রিয়ার নাম সামাজিকীকরণ। তবে সমাজে বেড়ে উঠার ক্ষেত্রে শিশুর বিভিন্ন ধরনের বাধা বা প্রতিবন্ধকতাও রয়েছে। এসব প্রতিবন্ধকতার উত্তরণ অতি জরুরি, অন্যথায় মানসিক সমস্যা নিয়ে শিশুদেরকে বেড়ে উঠতে হবে। এ অধ্যায়ে আমরা সমাজে শিশুর বেড়ে উঠার ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে জানব।

এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-

  • সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার ধারণা ও এর প্রভাব ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • সামাজিকীকরণের মাধ্যম ও এর গুরুত্ব বর্ণনা করতে পারব;
  • শিশুশ্রমের ধারণা, কারণ ও প্রভাব ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • শ্রমজীবী শিশুর প্রতি আমাদের মনোভাব কী হওয়া উচিত তা বর্ণনা করতে পারব;
  • সামাজিকীকরণের মাধ্যমে মানবিক ও সামাজিক গুণাবলি রপ্ত করে পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক উন্নয়নে যোগ্যতা অর্জন করব;
  • শ্রমজীবী শিশুর অধিকার ও অন্যান্য বিষয়ে সচেতন হব।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

সামাজিকীকরণ ও সমাজজীবনে এর প্রভাব (পাঠ- ১)

919

সমাজে আমরা বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠি। সামাজিক জীব হিসেবে পরিচিতি লাভ করি। সমাজ থেকে আমরা যা শিখি সেটা আমাদের সামাজিক শিক্ষা। এ শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে- সমাজের নিয়ম-নীতি, মূল্যবোধ, বিশ্বাস, আদর্শ ইত্যাদি। যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা সামাজিক শিক্ষা আয়ত্ত করে সমাজের উপযুক্ত সদস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হই তাকে সামাজিকীকরণ বলে। সামাজিকীকরণ একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া। শিশুর জন্মের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চলতে থাকে।

শিশু যখন জন্মগ্রহণ করে, তখন শিশুর প্রাথমিক অভাব পূরণ করে তার মা। এ কারণে মা শিশুর অনুকরণীয় আদর্শে পরিণত হয়। কিছুকাল পরে শিশু বাবাসহ অন্যান্য মানুষের উপস্থিতি উপলব্ধি করে এবং তার সামাজিক সম্পর্কের গণ্ডি আরও বিস্তৃত হয়। পরবর্তীকালে শিশু প্রতিবেশী, সমবয়সী, খেলা ও পড়ার সাথি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন বাহনের মাধ্যমে সামাজিক জীবে পরিণত হয়। এভাবে শিশু আদর্শ, মূল্যবোধ, রীতিনীতি, দায়িত্ব, কর্তব্য, সহনশীলতা ইত্যাদি গুণাবলি আয়ত্ত করে সামাজিক জীব হিসাবে ভূমিকা পালনে উৎসাহিত হয়।

সমাজজীবনে সামাজিকীকরণের প্রভাব অনেক। এ প্রক্রিয়া শিশুকে সামাজিক মানুষে পরিণত করে। সুস্থ ও সুন্দরভাবে বিকশিত হতে ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করে। শিশুকে সমাজের দায়িত্বশীল সদস্যে পরিণত হতে এবং সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়তা করে। এ প্রক্রিয়া শিশুকে সমাজের প্রত্যাশা অনুযায়ী আচরণ করতেও শেখায়। যেমন- আমাদের সমাজ প্রত্যাশা করে, নারী-পুরুষ সকলেই একে অন্যের কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে। এ কাজে আমরা অভ্যস্ত হলে সমাজের প্রত্যাশা অনুযায়ীই আচরণ করা হবে। সামাজিকীকরণ শিশুর জীবনে প্রয়োজনীয় দক্ষতারও বিকাশ ঘটায়। অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে শিশু নিজ জীবনের অনেক ঝুঁকি ও সমস্যা মোকাবিলা করতে পারে।

কাজ - ১: শিশুর সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা কর।
কাজ - ২: সামাজিকীকরণের বাহনগুলোর একটি তালিকা প্রস্তুত কর।
কাজ - ৩: দলে ভাগ হয়ে সমাজজীবনে সামাজিকীকরণের প্রভাব চিহ্নিত করে উপস্থাপন কর।
Content added By

সামাজিকীকরণের মাধ্যম ও এর গুরুত্ব (পাঠ-২ ও ৩)

955

সামাজিকীকরণের কতিপয় মাধ্যম ও এর গুরুত্ব বর্ণনা করা হলো-
পরিবার: শিশুর সামাজিকীকরণ শুরু হয় পরিবার থেকে। শিশুর চারিত্রিক গুণাবলি পারিবারিক পরিবেশে বিকশিত হয়। সহযোগিতা, সহিষ্ণুতা, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ, আত্মত্যাগ, ভালোবাসা প্রভৃতি সামাজিক শিক্ষা শিশু পরিবার থেকে অর্জন করে। শিশুর সুষ্ঠু সামাজিকীকরণের জন্য প্রয়োজন হয় সুন্দর পারিবারিক পরিবেশ। পরিবারের সদস্যদের সম্পর্ক মধুর হলে শিশু সুন্দর পারিবারিক পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে। অপরপক্ষে, পারিবারিক অশান্তি দ্বন্দ্ব, সংঘাত, মারামারি শিশুর স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিয়ে শিশুর বেড়ে উঠার জন্য সবসময় সুন্দর পারিবারিক পরিবেশ বজায় রাখা উচিত। পরিবার সম্প্রীতিও সৌহার্দের চর্চা না হলে শিশু তা শিখতে পারে না। কাজেই সততা ও সৌহার্দের শিক্ষা পরিবার থেকেই শিখতে হয়।

প্রতিবেশী: আমাদের বাড়ির আশপাশে যারা বসবাস করেন তারা হলো আমাদের প্রতিবেশী। পাশাপাশি বাড়িগুলোর সমবয়সী শিশুদের নিয়ে একটি প্রতিবেশী দল গড়ে উঠতে পারে, যার মাধ্যমে আমরা পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা, সমতা, ঐক্য প্রভৃতি বিষয়ে শিক্ষার্জন করতে পারি।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি কতগুলো সামাজিক আদর্শও শিখে থাকে।
এসব আদর্শ হচ্ছে-শৃঙ্খলাবোধ, দায়িত্ববোধ, নিয়মানুবর্তিতা, শ্রদ্ধাবোধ, সহযোগিতা, সহমর্মিতা, পারস্পরিক ভালোবাসা ইত্যাদি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে শিশু বৃহত্তর সমাজের আদব-কায়দা, আচার-আচরণ ও মূল্যবোধও শিখে থাকে। শিশুর মধ্যে অন্যের সাথে ভাগাভাগি করে নেয়ার শিক্ষা এখান থেকেই হয়। ফলে পরার্থ শিখতে পারে স্কুল থেকে। শিশুর সুঅভ্যাস গঠনের ক্ষেত্রেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভূমিকা পালন করে। পাঠ্যপুস্তকের বিষয়বস্তুও শিশুর আচরণকে প্রভাবিত করে। সামাজিকীকরণে তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

খেলা ও পড়ার সাথি: শিশুর সামাজিকীকরণে খেলা ও পড়ার সাথির ভূমিকা কম নয়। শিশু খেলা ও পড়ার সাথির সাথে মেলামেশা করে নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন করতে পারে। ভালো-মন্দ গুণাবলির সমালোচনা শুনে সমাজের কাঙ্ক্ষিত আচরণ করতে শেখে। তবে মন্দ খেলা ও পড়ার সাথি অনেক সময় শিশুকে বিপথগামী করতে পারে। তাই খেলা ও পড়ার সাথি নির্বাচনে আমরা সচেতন হব।

ধর্ম: ধর্ম হচ্ছে এক ধরনের বিশ্বাস, যা নির্দিষ্ট কিছু আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। প্রতিটি ধর্মেরই মূল বিষয় হচ্ছে ব্যক্তিকে ন্যায় ও কল্যাণের প্রতি আহবান করা এবং অন্যায় ও অকল্যাণ থেকে দূরে রাখা। মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা প্রভৃতি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মুসলিম, হিন্দু, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকদের জীবনকে নানাভাবে প্রভাবিত করে। ধর্ম মানুষের মনে সামাজিক মূল্যবোধ সঞ্চারিত করে, সহযোগিতা, কর্তব্যপরায়ণতা, ন্যায়পরায়ণতা, সহমর্মিতা প্রভৃতি গুণাবলির অধিকারী করে। সৎ ও ন্যায়পরায়ণ হতে শিক্ষা দেয়। আমরা ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চললে এবং অন্য কেও তার ধর্ম মেনে চলার সুযোগ দিলে জাতি, বর্ণ, ধর্ম, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল মানুষের সাথে সম্প্রীতি বজায় রাখা সম্ভব।

গণমাধ্যম: জনগণের কাছে সংবাদ, মতামত, বিনোদন প্রভৃতি পরিবেশন করার মাধ্যমকে বলা হয় গণমাধ্যম। গণমাধ্যমসমূহ যেমন- সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন, বেতার, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র সামাজিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সংবাদপত্র, ম্যাগাজিনে সমাজের মূল্যবোধ, প্রথা, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, শিক্ষা প্রভৃতি সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য থাকে যা শিশুর সামাজিকীকরণে ভূমিকা পালন করে। বেতার নানা ধরনের বিনোদনমূলক ও শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান প্রচার করে শিশুর সামাজিকীকরণে ভূমিকা রাখে। একই সাথে দেখা ও শোনার মাধ্যমে টেলিভিশন থেকে সংগৃহীত তথ্য শিশুর সামাজিকীকরণে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। চলচ্চিত্রও সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে যদি তা শুধু বিনোদনধর্মী না হয়ে আদর্শ ও বাস্তবধর্মী শিক্ষামূলক চলচ্চিত্র হয়। এ ধরনের চলচ্চিত্র শিশুর মনোভাব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইদানিং ইন্টারনেট শিশুর বিনোদন ও সামাজিকীকরণের বড়ো ভূমিকা রয়েছে। এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে বড়োদের ভূমিকা রাখতে হবে।

কাজ - ১: শিশুর সামাজিকীকরণে পরিবারের ভূমিকা চিহ্নিত কর।
কাজ - ২: শিশুর সামাজিকীকরণে খেলার সাথি ও পড়ার সাথির ভূমিকা চিহ্নিত কর।
Content added By

শিশুশ্রমের ধারণা, কারণ ও প্রভাব (পাঠ-৪ ও ৫)

1.3k

আমরা প্রায়ই লক্ষ করি অনেক শিশু বিদ্যালয়ে না গিয়ে বিভিন্ন ধরনের কাজ করে। আবার অনেক শিশু বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার পাশাপাশি বিভিন্ন রকম কাজ করে। তবে কোনো কোনো কাজ প্রায় প্রতিটি শিশুকে করতে হয় যা তার জন্য ক্ষতিকর নয়, বরং তা তার ও তার পরিবারের ভালোভাবে জীবনযাপনের জন্য সহায়ক। যেমন- মা-বাবার বা পরিবারের সদস্যদের কোনো কাজে সহায়তা করা। এসব কাজ করতে সে বাধ্য থাকে না। কিন্তু কোনো কোনো কাজ আছে যা শিশুর জন্য ক্ষতিকর। এ ধরনের কাজকে শিশুশ্রম বলা হয়। সুতরাং উপার্জন করার জন্য কাজ করতে গিয়ে শিশুরা বিপদ, ঝুঁকি, শোষণ ও বঞ্চনার সম্মুখীন হলে সে কাজকে শিশুশ্রম বলা হয়। বাংলাদেশে শিশুশ্রম বেআইনি।

আমাদের দেশের অনেক শিশু অন্যের বাসাবাড়িতে সহায়তাকারী হিসেবে কাজ করছে। বাসাবাড়ির বাইরেও বিভিন্ন কলকারখানায় যেমন-চুড়ি, বিড়ি, ব্যাটারি, জুতা তৈরির কাজ করছে। বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য তৈরির কারখানায়, লেদ ও ওয়েল্ডিং মেশিনেও কাজ করছে। গাড়ি বা টেম্পুর সাহায্যকারী হিসেবে কাজ করছে। বর্জ্য ঘেটে তা থেকে প্রয়োজনীয় বিক্রয়যোগ্য জিনিসপত্র সংগ্রহ করছে। কিন্তু কেন শিশুরা এসব কাজ করছে?

শিশুশ্রমের কারণ অনেক। অনেক অভিভাবক দরিদ্রতা বা পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারণে শিশুদের স্কুলের পরিবর্তে কাজে পাঠাতে বাধ্য হয়। আবার মা-বাবা অসুস্থ হলে কিংবা তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটলে অনেক সময় শিশুরা অর্থ উপার্জনে বাধ্য হয়। খুব কম মজুরিতে শিশুদের পাওয়া যায় বলে গৃহকর্মে বা ইটের ভাটার মতো অনেক ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুশ্রম ব্যবহার হয়। এছাড়া বড়ো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অনেক শিশু বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ে এবং শিশু শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। ছেলে ও মেয়ে শিশুর প্রতি অভিভাবকদের বৈষম্যমূলক আচরণও অনেক সময় মেয়ে শিশুকে শ্রমিকে পরিণত করে।

ঝুঁকিপূর্ণ শ্রম শিশুর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। অতিরিক্ত শ্রমের কারণে নানা ধরনের সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়। একই বয়সী শিশুদের বিদ্যালয়ে যেতে দেখে, খেলতে দেখে এবং মা-বাবার সাথে বেড়াতে যেতে দেখে শিশু শ্রমিকদের মধ্যে এক ধরনের মানসিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। তারাও এসব পেতে চায়। তাই চাহিদার অপূর্ণতা থেকে শিশু মনে হীনমন্যতা সৃষ্টি হয়। শিশু স্বাভাবিক আচরণ করতে পারে না। সমাজ ও সমাজের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা হারিয়ে ফেলে শিশু মনে এক প্রকার হিংস্রতা ও ক্ষিপ্রতার জনন্ম নেয়। এসব শিশু আবেগহীন, ভয়হীন হয়ে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। অপুষ্টি, অনিদ্রা, বিশ্রামহীন জীবন শিশু শ্রমিকের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। আমরা জীবনের জন্য ক্ষতিকর ঝুঁকিপূর্ণ শ্রম থেকে নিজেদেরকে বিরত রাখব এবং অন্যদেরকে বিরত থাকতে সহায়তা করব।

কাজ: দলে ভাগ হয়ে ৫টি ঝুঁঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম ও এগুলোর ক্ষতিকর দিক চিহ্নিত কর।
Content added By

শ্রমজীবী শিশুর প্রতি আমাদের মনোভাব (পাঠ-৬)

669

তোমাদের বয়সের অনেক ছেলে-মেয়ে বাসাবাড়িতে, কলকারখানায় কিংবা অন্য কোনো কর্মক্ষেত্রে কাজ করে। অনেক সময় এসব শিশু যথাযথ পারিশ্রমিক, খাবার ও স্বাস্থ্যসেবা পায় না। স্নেহ, মায়া, মমতা কী এসব শিশু তা জানে না। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন তাদের নিত্যসঙ্গী। অথচ তাদেরও আছে বিকশিত হবার অধিকার।

আমাদের তাদের প্রতি ভালো ব্যবহার করতে হবে। তাদের লেখাপড়ার সুযোগ করে দিতে হবে। বাসায় কোনো শিশু কাজ করলে তার কাজে সাহায্য করতে পারি। নিজের কিছু কাজ যেমন- ঘর, বিছানা, টেবিল গুছিয়ে রাখা, শুকনা কাপড় ভাঁজ করে রাখা ইত্যাদি নিজে করতে পারি। এতে শিশুটির উপর কাজের চাপ কমবে। কোনো সময়ে শিশুটি অসুস্থ হলে তার চিকিৎসা ও সেবাযত্ন করে তার প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করতে পারি। এতে সে বন্ধু হয়ে উঠবে। খেলাখুলায় তাকে সাথি করতে পারি। শিশুটিকে নিজের পরিবারের সদস্য হিসাবে বিবেচনা করতে পারি। এতে তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়তা করা হবে। ভেবে দেখো, এসব শিশুকে আমরা আর কীভাবে সাহায্য করতে পারি।

ভালো পরিবেশে শিশুরা বেড়ে উঠলে পরিবার ও সমাজের প্রতি তারা দায়িত্বশীল হয়ে উঠবে। এসব শিশুর প্রতি ভালো আচরণের মাধ্যমে আমরা নিজেরাও মানবিক গুণসম্পন্ন একজন নাগরিক হয়ে উঠব। আমরা পরিবারের অন্যান্যদেরও তাদের প্রতি ভালো আচরণ করার জন্য বলব।

কাজ: বাড়ির কাজে সহায়তাকারীর প্রতি আমাদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত?
Content added By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...